শিক্ষাঙ্গন বন্ধ;কোনো সমাধান নয় চলছে মেলা!এটি ষড়যন্ত্র নাকি নিতান্তই বাস্তবমূখী পদক্ষেপ!

জিহাদ হোসেন রাহাতজিহাদ হোসেন রাহাত
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  05:23 PM, 24 January 2022

দেশে চলছে মেলা-খেলা সবই। শুধু গতিরোধ হয়েছে শিক্ষাঙ্গনের। এটি ষড়যন্ত্র নাকি নিতান্তই বাস্তবমূখী পদক্ষেপ এমন ভাবনাই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বমহলে। না এটি ষড়যন্ত্র নয়, নিতান্তই বাস্তব পরিস্থিতি। গত ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ নাগাদ প্রথম বন্ধ করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কারন একটাই অজানা এক ভাইরাসের আক্রমণ। দিনের পর দিন আতঙ্কে দিগ্বিদিক হয়ে উঠছিলো ভারি। মানুষজনও পরিচিত হলো অজানা সেই ভাইরাসের সাথে। তবে অজানা ভাইরাসের পরিচিতি পাওয়ার পর সন্ধি হয় সকল সেক্টরের সাথে, শুধু বন্ধু হতে পারেনি শিক্ষাঙ্গন। কয়েক দিনের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পেরোলো মাস। মাস পেরোতেই ফুরোলো বছর। একসময় দেখা গেল এই বন্ধের অঙ্কটা দীর্ঘ দেড় বছরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন আর মাসের এই যোগফল বাড়ার পর হুস হলো নীতিনির্ধারকদের, এবার তারা ফিরলেন সজ্ঞানে। জ্ঞানে ফিরতেই এবার জ্ঞান বিতরণ সহজ করার জন্য গত বছরের ১২ই সেপ্টেম্বর থেকে ধাপে ধাপে খুলে দিলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রাণ ফিরে পেল শিক্ষাঙ্গন গুলো। তবে নতুন বিয়ের আনন্দের মতো দু’তিন মাস পেরোতেই এই আনন্দও শিক্ষার্থীদের জানালো বিদায়। কারন এবার পরিচিত সেই ভাইরাসের আরেকটি ধরন ওমিক্রন দিয়েছে হানা। তবে ঐ আগের অজানা ভাইরাসের মতোই দেখা গেল এটিরও একই স্বভাব। সকল সেক্টরের সাথে এর বন্ধুত্ব গড়ে উঠলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে তৈরি হয়েছে দা-কুমড়োর সম্পর্ক। কি আর করার, এবারও নীতিনির্ধারকরা সর্দি হওয়ায় প্রতিকারের ব্যবস্থা না করে নিয়েছে নাক কাটার উদ্যোগ। গত শুক্রবার আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তার কারন “সন্ধি” হয়নি শিক্ষাঙ্গনের সাথে। পুরো দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এসেছে ভ্যাকসিনের আওতায়। নীতিনির্ধারকরা চাইলে সম্পুর্ন ভ্যাকসিন দেওয়া শেষে বা চলমান অবস্থায়ই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিশ্চিত করতে পারতেন স্বাস্থ্যবিধি। কিন্তু ঐ যে, প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলেও নাক যে কাটতেই হবে।তবে নাক কাটার এই উদ্যোগে অনুৎসাহ প্রকাশ পেয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সকল মহলের এখন একটাই আশা প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উহানে উত্থান হওয়া এই ভাইরাসের বাংলায় পতন ঘটাতে আবারো অন্তর চক্ষু মেলে দেখবেন নীতিনির্ধারকরা।

আপনার মতামত লিখুন :