ফেইসবুকের ব্যবহার এবং ইসলামিষ্টদের করনীয়: মরহুম শেখ আবুল কাসেম মিঠুন


১. আমাদের বহু ভাই-বোন বন্ধু আছেন যারা তাদের মনের ভাব বা চিন্তা প্রকাশের কোন মাধ্যম পান না। কোন পত্রিকা তাদের লেখা ছাপায় না।
২. চিন্তা প্রকাশ করার জন্য চাই ভাষা এবং শব্দের যথাযথ ব্যবহার। কিন্তু এসবের জন্য অনুশীলন এবং নিয়ম করে লেখা অত্যন্ত জরুরী।
৩. লেখালেখির জন্য পড়তেও হয় প্রচুর। পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি না করতে পারলে পাঠক মনোবৃত্তির মৃত্যু ঘটে। আর পাঠক মনোবৃত্তির মৃত্যু ঘটলে মানুষের দু:খ ব্যাথা সুখ আনন্দ জানার মনোবৃত্তিরও মৃত্যু ঘটে। তাই পড়ার আগ্রহের জন্যও লেখালেখির চর্চা অপরিহার্য। বিশেষ করে যারা আদর্শিক জীবন-যাপনের স্বপ্ন দেখেন। সাহাবা কেরাম রা:দের সামনে ছিল এমন এক বই যা পৃথিবীর শেষ্ঠতম বই। সেই বই পড়ে তারা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী হয়েছিলেন। আর জ্ঞানই তাদেরকে শ্রেষ্ঠ উম্মতে পরিণত করেছিল। সেই বইয়ের নাম হযরত মুহম্মদ মোস্তফা সাঃ।
৪. আধুনিক যুগে যুবকদের শক্তির ব্যবহার করার জন্য যেকোন দেশের যেকোন জনদরদী সরকার যুব উন্নয়নে বিচিত্রমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের যুবকদের ভাগ্য মন্দ। তাই কারো তোয়াক্কা না করে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিজেকেই উদ্যোগ নিয়ে করতে হবে।
৫. যুবকরা যদি ফেইসবুককে নিজেকে পরিচিত করার জন্য শুধু ছবি পোষ্ট করায় ব্যস্ত থাকে তবে চিন্তা করবে কখন! যদিও ছবির একটা নিজস্ব ভাষা থাকে কিন্তু সেই গঠনমূলক ভাষা অধিকাংশ ছবিতে থাকে না। তবে নিজের চিন্তা যথাযথভাবে প্রকাশ করতে করতে অন্যের মনে তা সঞ্চারিত করতে পারলে পরিচিতি একটা আসবেই।
৬. অনেকে একটু নামী-দামী ব্যক্তিদের সাথে ছবি তুলে পোষ্ট করেন, তার ভাষা যে বার্তা বয়ে আনে, সেই বার্তার অর্থ হচ্ছে “আমি জাতে উঠেছি।’ এই ভাষা একজনকে কত নিচে নামায়, ছাপনে ওয়ালা যদি বুঝতেন। আদর্শিক ছেলেরা যখন এমন অর্থের ছবি তোলে এবং পোষ্ট করে তখন অনেকেই কষ্ট পান, কারণ আদর্শবান মানুষ বিশেষ করে একজন যুবক একজন আদর্শবান মানুষের কাছে সবচেয়ে সম্মানের সবচেয়ে দামী। অনাদর্শিক মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে নামী হলেও এজন আদর্শিক লোকের কাছে তার সেই ‘নামী’র কোন মূল্য নাই। আল্লাহর কাছেও নাই। অনেকে তো রীতিমত কখন ঘুমাতে যাচ্ছেন তাও লেখেন। এসব নিয়ে চারিদিকে বেশ আলোচনা সমালোচনা হচ্ছে।স্বয়ং আদর্শের বদনাম করছে অনেকে।
৭. বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা না থাকলে একটি জাতি এগোতে পারে না। বিশেষ করে যুবকদের এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে।একটা কথা চালু আছে, তা হলো ইসলামিষ্টদের দুর্বলতা হচ্ছে তাদের মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট এক কথায় না-ই। তবে ধ্রুব সত্য এটাই মিডিয়া চালানোর মত বৃদ্ধিবৃত্তিক চেতনা তাদের জাগ্রতই হয় নাই। তাই তারা মৃতের মত। বৃদ্ধিবৃত্তিক চেতনা জাগ্রত হলেই ঠনঠনে পাথরেও ফুল ফুটবে। সে পরিশ্রমী হবে, মেধার উন্নয়ন ঘটে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চায়, তাও হবে ইনশাআল্লাহ। পায়ের যোগ্যতা থাকলে হাটার জন্য রাস্তা এমনিই তৈরি হয়ে যায়। তেমনি পত্রপত্রিকা এবং অন্যান্ন মিডিয়া অজান্তেই তৈরি হয়ে যাবে। দেশ ও জাতি তাদের সাথে সাথে জাগ্রত হবে। মাঠ খালি থাকবে না। অপসংস্কৃতি প্রবেশেরই পথ পাবে না। ইতিহাসও সেই কথা সাক্ষ্য দেয়।
ফেইসবুক একটা সুযোগ সৃষ্টি করেছে সবার জন্য। এই সুযোগের গঠনমূলক সদ্ব্যবহার করতে না পারলে আল্লাহ এটা কেড়ে নিতে দ্বিধা করবেন না। মহান আল্লাহর ব্যবস্থাপনা কিন্তু এরকমই। তিনি নেয়ামত দেন, কিন্তু তার ব্যবহার না করতে পারলে সেই নেয়ামত কেড়ে নিয়ে অন্যকে দান করেন, যারা তার ব্যবহার জানে।
অতএব নিজেকে গড়ার পাশাপাশি জাতি ও দেশকে গড়ার জন্য আজ থেকেই আল্লাহর নামে প্রচেষ্টা চালানো জরুরী প্রয়োজন।
লেখক : মরহুম শেখ আবুল কাসেম মিঠুন
(সাবেক চিত্রনায়ক, ইসলামী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ সংস্কৃতি কেন্দ্রের উপ-পরিচালক এবং সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি)