ফয়েজ নেই ঈদও নেই, থামছে না বাবা মায়ের কান্না

নাগরিক কন্ঠনাগরিক কন্ঠ
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  06:09 PM, 01 April 2025

 

ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ ফয়েজের পরিবারে এবার ঈদের আমেজ নেই। হয়নি কেনাকাটা। বিভিন্ন অনুদান থেকে সামন্য সহযোগিতা পেলেও ফয়েজের মা ভুলতে পারছেন না ছেলে হারানোর কষ্ট।

অভাব অনটনের সংসারের হাল ধরতে বছর দশেক আগে ইট-পাথরের শহর ঢাকায় পাড়ি জমান সবুরার বড় ছেলে মো.ফয়েজ। স্যানিটারি মিস্ত্রির কাজ করা ফয়েজ পারদর্শী ছিলেন টুকটাক আরো অনেক কাজে। ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতা ও সংঘাতের খবর পেয়ে ফয়েজকে কল করেন সবুরা। মায়ের সাথে কথা বলার সময় ফয়েজ বলেন, গুলি হচ্ছে অনবরত, সবে কাজ শেষ করে বের হয়েছি। মা তুমি ফোন রাখো। কল কাটার খানিক আগে হঠাৎ বিকট গুলির শব্দ পান মা। এরপর থেমে যায় সব। ছেলের আর কোনো কথা শুনতে পাননি তিনি।

দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গতবছরের ২১ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড এলাকার সড়কে গুলিবিদ্ধ হন মোঃ ফয়েজ। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পেটের দায়ে কাজে বেরিয়ে নিহত হওয়া ফয়েজ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিলের ঝাউডগী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

শহীদ ফয়েজের মা সবুরা বলেন, আমার বাবা থাকলে আমাদের ঈদ থাকতো। এবার বাবা নেই, তাই ঈদকে ঈদের মতো মনে হয়নি।

ফয়েজের বাবা আলাউদ্দিন (৫৫) বলেন, ঈদ আমাদের নাই, ফয়েজ আমাদের মাঝে নাই।আমি চট্টগ্রাম ফোর্টে চাকরি করতাম। সেনা সরকারের সময় চাকরি হারিয়েছি। আরেক আন্দোলনে আমার ছেলেকে হারালাম। ৮৯ সালে বিয়ে করেছি। বিয়ের তিন বছর পর আমার ফয়েজ বাবার জন্ম। দেখতে পুরো রাজপুত্রের মতো ছিলো। ছেলে হত্যার বিচার চাই।

স্বামী ফয়েজের মৃত্যুর পর নুর নাহার ও ১৮ মাস বয়সী ছেলে রাফি মাহমুদের ঠাঁই মিলেছে গাজীপুর জেলার টঙ্গীতে থাকা এক স্বজনের বাসায়। তাদের জীবনেও এবার ঈদ খুশির আমেজ নিয়ে আসেনি।

আপনার মতামত লিখুন :