লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রধান শিক্ষক সংকটে ২৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রাকিবুল ইসলামরাকিবুল ইসলাম
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  07:29 PM, 18 June 2022

উপজেলার ১২১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টি এবং মাধ্যমিকের চারটিতে নেই প্রধান শিক্ষক। এতে করে ব্যহত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ শিক্ষা কার্যক্রম।
উপজেলা প্রাথমিক  শিক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, চব্বিশটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তর বলছে, শূন্য থাকা চার মাধ্যমিকের প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ না হলেও ৩টির পদ পূরণের জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদ খালি থাকা ৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হায়দারগন্ঞ্জ রোকেয়া হাসমতের নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে মামলা চলমান।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক শূন্য হওয়ায় বেখেয়ালি ভাবে চলছে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রম। এতে করে ক্ষুব্দ অভিভাবক মহল। উপজেলার সিকদারকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “হেড মাষ্টার না থাকায় শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেয় না, করোনায় আমার ছেলের পড়ায় এমনিতেই অনেক ঘাটতি হয়েছে। তার উপর স্যাররা এখন ঠিকমতো ক্লাস নেয় না”।
অন্যদিকে খালি থাকা চার মাধ্যমিকের একটি জনকল্যাণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্য বলেন, “সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় রিয়াজ সাহেব (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক) অন্য একটি বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। পরে শূন্য পদ পূরণে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আমরা কয়েকবার কথা বলেছি, কিন্তু এখনো প্রধান শিক্ষক পাই না”।
বিগত ২০১৭ সাল থেকে চব্বিশটি প্রাথমিকে ক্রমান্বয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য হতে শুরু করলেও পদ পূরণে গত ৫ বছরে আশানুরূপ কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) টিপু সুলতান বলেন, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান। অতিশীঘ্রই এসব শূন্য পদ পূরণ হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মুনসুর আলি চৌধুরী বলেন, “নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া চলমান, যেকোনো সিদ্ধান্ত অধিদপ্তর গ্রহণ করবে, এতে আমাদের কোনো এক্তিয়ার নেই,”।
এ বিষয় জানার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সোহেল আহমেদের মুঠোফোনে ফোন দিলেও রিসিভ না কারায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :