লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে আতঙ্কে বিএনপি-জামায়াত


নতুন কমিটি পেয়ে জোরেসোরে দলীয় কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। সাড়ে ১৯ বছর পর সম্মেলনের মাধ্যমে নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে কমিটি গঠন হওয়ায় উজ্জীবিত দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে শক্তিশালী কমিটি হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বিএনপি-জামায়াত।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রলীগ থেকে ওঠে আসা দু’জনই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় আমরা তৃণমূলের কর্মীরা খুশি। শক্তিশালী এ কমিটি আগামীতে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতা মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস মোকাবেলায় এদের বিকল্প ছিল না। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দু’জনই রাজনৈতিকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ। এমন কমিটি পেয়ে আমরা উজ্জীবিত।
কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে গত ৩১ মে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি পদে অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদেরকে বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নতুন নির্বাচিত সভাপতি অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আজকের এ অবস্থানে ওঠে এসেছেন। ১৯৮২-৮৩ সনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস.এম.হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহসভাপতি এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।
অপরদিকে নতুন নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠানও ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ওঠে আসা পোড়খাওয়া একজন নেতা। ৭৫ পরবর্তী দলের সংকটময় সময়ে তিনি থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে ১৯৮৪ ও ৮৬ সনে তিনি ছাত্রলীগ মনোনীত ভিপি প্রার্থী হিসেবে রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কমিটিতে তরুণ নেতা হিসেবে প্রথম বারের মতো যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন পৌরসভার মেয়র ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য গিয়াস উদ্দিন রুবেল ভাট। তিনি বলেন, সম্মেলন আয়োজন ছিল নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠের বহুদিনের পরিক্ষিত এবং ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি হয়েছে।
নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান বলেন, দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় এবং পূর্বের কমিটির অনেক নেতা মারা যাওয়ায় ওই কমিটি দিয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ এগুচ্ছিল না। ছাত্র ও যুব নেতাদের দীর্ঘদিন পদায়ন না হওয়ায় তাঁরাও অনেকটা হতাশায় ছিলেন। এমন পরিস্থিতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সাহেবের দৃঢ় প্রচেষ্টায় সম্মেলন সম্পন্ন হয়। পদায়ন হওয়ায় কেটে গেছে ছাত্র ও যুব নেতাদের হতাশা। দলকে আগামী নির্বাচনের জন্য ঢেলে সাজানো হবে। বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও জ্বালাও পোড়াও দমনে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আন্দোলনের নামে কাউকে নৈরাজ্য করতে দেওয়া হবে না।
নতুন সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ বলেন, প্রবীণ-নবীনের এই নতুন কমিটি দিগুন উৎসাহে কাজ করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস। একটি শক্তিশালী কমিটি হওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক মহলের অপপ্রচারকে আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবো ইনশাআল্লাহ।