রুশ বাহিনীর কাছ থেকে কিয়েভ পুনরুদ্ধারের দাবি ইউক্রেনের


রুশ বাহিনীর কাছ থেকে রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের অঞ্চল পুনরুদ্ধারের দাবি করেছে ইউক্রেন। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দেশটিতে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথমবার কিয়েভ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করল দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রুশ সৈন্যরা পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধের জন্য সংগঠিত হচ্ছে। দেশটির রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে আছে এবং এর জন্য রুশ বাহিনীর মাইন ফেলাকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালইয়ার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পুরো কিয়েভ হানাদারদের থেকে মুক্ত হয়েছে।’ তার ওই ফেসবুক পোস্টে কোনো রাশিয়ান মন্তব্য করেননি। হান্নার ওই দাবির বিষয়টি রয়টার্সও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হান্না মালইয়ার তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন-ইউক্রেনের সেনারা কিয়েভের আশেপাশের অন্তত ৩০ শহর ও গ্রামের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে রুশ সেনারা রাজধানী থেকে পিছু হঠছে বলেও দেশটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
যদিও আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সেনারা কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মরিপোল এখনো রুশ সেনাদের দখলে।
রয়টার্স প্রতিবেদক বুচা শহর থেকে জানান, রুশ সেনারা শহর ছাড়ার পর সেখানকার রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। বুচার মেয়র আনাতোলি ফেডোরুক বলেন, শহরের অন্তত ৩০০ লোককে হত্যা করেছে রুশ সেনারা।
হতাহতের বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব লিজ ট্রজ বলেন, বুচায় সংঘটিত নির্মমতার বিষয়টি আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টে তুলব। ইউক্রেনে যে যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে সেটার বিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি।
রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করার পরই রাজধানী কিয়েভ দখলের চেষ্টা চালায়। কিন্তু তাদের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর কিয়েভ দখল করার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে এখন তারা সরে যাচ্ছে। এরপরই বের হয়ে আসছে যুদ্ধের ভয়াবহতা।